Breaking News
Home / ইসলামিক / শিশুদের যেভাবে স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন মহানবী (সাঃ)

শিশুদের যেভাবে স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন মহানবী (সাঃ)

শিশুরা নিষ্পাপ তাই শিশুদেরকে স্নেহ করা আদর করা ইসলাম ধর্মের অন্যতম আদেশ। ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী হযরত মোহম্মদ (সাঃ) ও শিশুদের স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন। তিনি শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, কোলে তুলে নিতান, দোয়া করতেন।
শিশুরাও নবীজীকে অনেক আপন মনে করত। তাঁকে ঘোড়া বানিয়ে খেলা করত। কাঁধে চড়ত, পিঠে চড়ত। নবীজী নিজে যেমন শিশুদের আদর করতেন, তার উম্মতকেও বলে গেছেন -শিশুদের আদর করতে।

হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতি হাসানকে চুমু খেলেন। সেখানে আকরা ইবনে হাবিস নামে এক সাহাবী বসা ছিলেন। হাসানকে চুমু খাওয়া দেখে তিনি বললেন, আমার দশটি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের কাউকে চুমু খাইনি। নবীজী তার দিকে তাকিয়ে বললেন, যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হবে না। (- বুখারী, হাদীস ৫৬৫১)।

আরেক হাদীসে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. বলেন, এক গ্রাম্যব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল। নবীজী তাকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের শিশুদেরকে চুমু খাও ?

সে বলল, আমরা তাদেরকে চুমু দেই না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের অন্তরে যদি দয়া-মায়া না থাকে তাহলে আমার কী করার আছে? (-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬৫২)।

হাদীসে আরো এসেছে, আবু হুরাইরা রা. বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হল। লোকটির সাথে একটি শিশুও ছিল। নবীজী লোকটিকে বললেন, তুমি কি এই শিশুর প্রতি দয়া কর? সে বলল, হ্যাঁ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এই শিশুর প্রতি তুমি যতটুকু দয়া করবে তারচে বেশি আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি দয়ালুর মধ্যে সবচে বড় দয়ালু। (-আল আদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৩৭৭)।

ছোটদের প্রতি দয়া না করলে নবীজী অনেক রাগ করতেন। হযরত উবাদাহ ইবনে ছামিত রা. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের বড়কে সম্মান করে না এবং আমাদের ছোটকে দয়া করে না এবং আমাদের আলিমের হক রক্ষা করে না।

(-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৬৫৪)

প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আনাস রা. নবীজীর খেদমত তথা সেবা করতেন, কিন্তু নবীজী কখনো তার গায়ে হাত তোলেননি, এমনকি কখনো এমন কথাও বলেননি যে, আনাস! তুমি এই কাজটি কেন করেছ, আর ঐ কাজটি কেন করনি। পানি আনতে একটু দেরি হলেই আমার মত ছোট্ট কাজের মানুষের সাথে কত খারাপ ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে হযরত আনাস রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আনসারদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন তখন তাদের শিশুদের সালাম দিতেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাদের জন্য দুআ করতেন। (-সুনানে কুবরা নাসাঈ, হাদীস ৮২৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৪৫১)

নামাযের মত মহান ইবাদতেও রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। তিনি বলেন, আমি কখনো নামায দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি। কিন্তু কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে নামায সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। কেননা বাচ্চার কান্নার কারণে মায়ের কষ্ট হয়। (-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৭৭)।

অন্য একটি ঘটনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গিয়েছেন আর হাসান বা হুসাইন রা. তাঁর পিঠে চড়ে বসেছেন। ফলে তিনি দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকতেন। অপেক্ষা করতেন কখন তারা পিঠ থেকে নামবে। (- নাসাঈ, হাদীস ১১৪১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৭৬৮৮ )

Check Also

যে লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন ইমাম মেহেদী (আঃ) পৃথিবীতে আগমনের সময় হয়ে গেছে

মানবজাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)’র পবিত্র জন্মদিন হল ১৫ ই শাবান। বিশ্বনবী হযরত …