Home / ধর্ম ও জীবন / অজুর পর দুই রাকআত নামাজ পড়লে জান্নাত ওয়াজিব !

অজুর পর দুই রাকআত নামাজ পড়লে জান্নাত ওয়াজিব !

★ অজুর পর দুই রাকআত নামাজ পড়লে জান্নাত ওয়াজিবঃ

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِىِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ :أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ : مَا مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ وَيُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ عَلَيْهِمَا إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ.

অর্থঃ
হযরত উকবা ইবনে আমের জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:- কোন মুসলমান ভালোভাবে অজু করে অতঃপর খুশু-খুজুর সাথে উত্তমরূপে দু’রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
(আবূ দাউদ হাদীস নং-৯০৬, মিশকাত-৩৯পৃ.)

★ অজু করলে আর কোন গুনাহই অবশিষ্ট থাকে নাঃ

عَنْ بْنَ عَبَسَةَ يَقُولُ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الْوُضُوءُ؟ قَالَ: أَمَّا الْوُضُوءُ فَإِنَّكَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَغَسَلْتَ كَفَّيْكَ، فَأَنْقَيْتَهُمَا خَرَجَتْ خَطَايَاكَ مِنْ بَيْنِ أَظْفَارِكَ وَأَنَامِلِكَ، فَإِذَا مَضْمَضْتَ وَاسْتَنْشَقْتَ مَنْخِرَيْكَ وَغَسَلْتَ وَجْهَكَ وَيَدَيْكَ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَمَسَحْتَ رَأْسَكَ وَغَسَلْتَ رِجْلَيْكَ إِلَى الْكَعْبَيْنِ اغْتَسَلْتَ مِنْ عَامَّةِ خَطَايَاكَ، فَإِنْ أَنْتَ وَضَعْتَ وَجْهَكَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَرَجْتَ مِنْ خَطَايَاكَ كَيَوْمَ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ

অর্থঃ
হযরত আমর ইবনে আবাসা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:- আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! অজুর মধ্যে ফায়দা কী? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:- যখন তুমি অজু করবে ও দুই হাতের কব্জি পরিস্কার করে ধৌত করবে, তখন তোমার গুনাহসমূহ আঙ্গুলের অগ্রভাগ ও নখ দিয়ে বের হয়ে যাবে। এরপর যখন তুমি কুলি করবে, নাকে পানি দিয়ে দু’নাকের ছিদ্র পরিস্কার করবে, মুখ ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে ও উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে, তখন তুমি যেন তোমার গুনাহসমূহকে ধুয়ে পরিস্কার করে দিলে। এরপর যখন তুমি তোমার চেহারা আল্লাহ্‌ র সন্তুষ্টির জন্যে জমিনে রাখবে (নামাজ আদায় করবে) তখন তুমি এমনভাবে গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তোমার মা (নিষ্পাপ অবস্থায়) তোমাকে জন্ম দিয়েছিলো।
(সহীহ মুসলিম হাদীস নং-১৯৬৭, সুনানে নাসাঈ হাদীস নং-১৪৭)

★ অজু হচ্ছে নামাজের চাবিঃ
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ –

অর্থঃ হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- বেহেশতের চাবি হচ্ছে নামাজ, আর নামাজের চাবি হলো অজু।
(সহীহ তিরমিযী হাদীস নং-৪, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং-১৪৬৬২, মিশকাত হাদীস নং-২৯৪)

★ অজু ব্যতীত নামাজ কবুল হবে নাঃ
عَنْ اَبِى الْمَلِيْحِ عَنْ اَبِيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُوْرٍ وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُوْلٍ –

অর্থঃ হযরত আবূ মালিহ তাঁর পিতা (উসামা রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ কবুল করবেন না এবং অবৈধ সম্পদের সাদকাও কবুল করবেন না।
(সুনানে নাসাঈ হাদীস নং-০৬)

★ অজু ছাড়া নামাজ সহীহ হবে নাঃ

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: لَا اِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ, وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا طُهُوْرَ لَهُ, وَلَا دِيْنَ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ, اِنَّمَا مَوْضِعُ الصَّلَاةِ مِنَ الدِّيْنِ كَمَوْضِعِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ –

অর্থঃ হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- যার আমানত ঠিক নেই তার ঈমানও (পরিপূর্ণ) নেই। যার অজু নেই তার নামাজও আদায় হয় নেই। আর যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না তার কোন দ্বীন নেই। আর দ্বীনের মধ্যে নামাজের মর্তবা এমন যেমন শরীরের মধ্যে মাথার মর্তবা (অর্থাৎ মাথা ব্যতীত যেমন কোন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, তদ্রুপ নামাজ ব্যতীত দ্বীনও টিকে থাকতে পারে না)।
(তাবারানী, তারগীব-১:-২৪৬)

★ বায়ু বের হলে অজু ভেঙ্গে যাবে এবং নামাজও নষ্ট হয়ে যাবেঃ

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تُقْبَلُ صَلاَةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ. قَالَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ: مَا الحَدَثُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟، قَالَ: فُسَاءٌ أَوْ ضُرَاطٌ

অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ

Check Also

ইসলামের দৃষ্টিতে “ভ্যালেন্টাইন’স ডে” বা “ভালবাসা দিবস” !

ইসলামের দৃষ্টিতে “ভ্যালেন্টাইন’স ডে” বা “ভালবাসা দিবস” ; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর পক্ষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *