Home / Uncategorized / জীর্ণ শরীর, বয়স— সবকিছুকে উপেক্ষা করে অসুস্থ নাতির সেবায় নজির গড়লেন দাদু

জীর্ণ শরীর, বয়স— সবকিছুকে উপেক্ষা করে অসুস্থ নাতির সেবায় নজির গড়লেন দাদু

এমন নির্মম কাহিনী সচরাচর দেখা যায় না। প্রত্যেকের চোখে জল এনে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট মর্মান্তিক এই পরিণতি।

অসুস্থ শরীরে শয্যাশায়ী নাতির সেবা করেছেন দীর্ঘ ১৭ বছর। ছবি সৌজন্যে — জেফটা ইমেজেস

বিছানায় মিশে গিয়েছে দেহ। রুগ্ন শরীরে প্রাণ ধুকপুক করে টিকে রয়েছে। বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়া শরীরে পাঁজরের হাড় গোনা যায় স্বচ্ছন্দে। পা কিংবা হাত— প্যাকাটির মতো সরু। উঠে দাঁড়ানো তো দুর অস্ত, খাইয়েও দিতে হয়।

অশক্ত শরীরে ৮০ বছরের দাদু অসুস্থ নাতির খেয়াল রেখেছিলেন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে। কিন্তু বিরল রোগে আক্রান্ত নাতিকে বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারলেন না।

চরম মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা এলাকার পাঙ্গাদারান গ্রাম। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাইফিয়া জন্ম থেকেই অসুস্থ। বিছানায় শয্যাশায়ী সন্তানকে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান মা ভাল জীবনের সন্ধানে। বাবা মারা গিয়েছিলেন সাইফিয়া জন্মের পাঁচ মাস পরেই। ফলে পিতৃ মাতৃহীন সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব নেন শীর্ণকায় বৃদ্ধ টোটোন।

টোটোন বলেছিলেন, যতদিন বাঁচবেন নাতির খেয়াল করে যাবেন। নিজেদের অসুস্থ রোগজর্জর শরীর নিয়ে কোনওরকম অভিযোগ করার বদলে প্রাণপণে সেবা করে চলেছিলেন টোটোন ও তাঁর স্ত্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় টোটোনের খবর প্রকাশ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইন্দোনেশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সাইফিয়াকে হাসপাতালে রাখার সমস্ত খরচ বহন করা হয়। তা সত্ত্বেও শেষমেশ বাঁচানো যায়নি সইফিয়াকে। হাসপাতালেই অসুস্থ সাইফিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। টোটোনের আক্ষেপ একটাই— সরকারি সাহায্য মিললেও, তা এল বড্ড দেরিতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর।

সাইফিয়াকে নিজের গ্রামের কবরস্থানেই দাফন করা হয়। তাঁর কষ্টকে স্বীকৃতি দিতেই তাঁর শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন দেশের সরকারি আধিকারিকরা।

Check Also

মাশরাফি আগেই জানতেন সাকিব আজ ব্যাট করতে পারবে না

আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২তম ওভারে ফিল্ডিং করতে যেয়ে বাঁহাতের আঙুলে চোট পেয়েছেন সাকিব।  মাঠ ছেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *