Home / স্বাস্থ্য / মেছতার বিরক্তিকর বিশ্রী দাগ থেকে মুক্তি পাবার ঘরোয়া ৯ উপায়

মেছতার বিরক্তিকর বিশ্রী দাগ থেকে মুক্তি পাবার ঘরোয়া ৯ উপায়

ত্বকে মেছতার দাগ, সবচাইতে বিরক্তিকর সমস্যা মধ্যে অন্যতম একট । মুখে কালো বা বাদামী রঙের ছোপ ছোপ দাগের কারণে ত্বকের সৌন্দর্য একেবারেই হারিয়ে যায়। এই বিরক্তিকর মেছতার দাগ নারীদের বেশি হয়। সূর্যরশ্মি, ইস্ট্রোজেন হরমোন নেয়া, কিছু ওষুধ খাওয়া যেমন সোরালেন, আর্সেনিক, অ্যান্টিপিলেপটিরিক, ফেনোথিয়াজেন ইত্যাদি ও কিছু হরমোনের তারতম্য বা থাইরয়েড সমস্যার কারণে অনেকেই এই মেছতা সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে খুব সহজেই কিন্তু এই মেছতার বিরক্তিকর বিশ্রী দাগ ত্বক থেকে দূর করে দেয়া যায়।

মেছতার কারণ
# মেছতার প্রধান এবং মূল কারন হল সূর্যের আলো। কোনো প্রতিরক্ষা ছাড়াই অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে গেলে এটি হতে পারে।
# জন্ম নিয়ন্ত্রের পিল খেলে
# থাইরয়েড সমস্যা
# হরমোনের তারতম্য
# বংশগত কারণে
# ত্বক নিয়মিত ভালভাবে পরিষ্কার না করলে

# অতিরিক্ত চিন্তা, কাজের চাপ, কম ঘুম
অতিরিক্ত চিন্তা, কাজের চাপ, কম ঘুম ইত্যািদ সব কারণে সাধারণত মেছতা হয়ে থাকে। এছাড়া আরো অনেক কারণে মেছতা হতে পারে।

আজকে জেনে নেয়া যাক কিছু সহজ উপায়……

লেবু
ত্বককে উজ্জ্বল করতে, ত্বকের কালো দাগ দূর করতে লেবুর জুড়ি নেই। এটি ব্লিচের কাজ করে। লেবুর রসের উচ্চমাত্রার সাইট্রিক এসিড ত্বকের অধিক তেল শোষণ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

তাজা লেবুর রস ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন।

এক চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে এটি ত্বকে লাগিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এক মাস এটি করলে ত্বকের মেচতা দূর হবে।

টমেটো
টমেটোর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

টমেটোর পাল্প ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে তিন- চার দিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে পরিষ্কার ও সজীব করে।

আলু
আলুর রস মেচতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি চোখের চার পাশে জমে থাকা কালো দাগ (ডার্ক সার্কেল) দূর করতে সাহায্য করে।

মুলতানি মাটি
মুলতানি মাটি ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে।

গোলাপজল, সবুজ চা, শসার রস, লেবুর রস এবং পানি ও মুলতানি মাটির মিশ্রণটি তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এক চা চামচ টমেটোর রস এবং চন্দন গুঁড়া, দুই চা চামচ মুলতানি মাটি একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ জেল ত্বকে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেল দুই চা চামচ, এক চা চামচ লেবুর রস এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে হালকাভাবে ত্বকে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করুন।

স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, হাইড্রোক্সি এসিড, স্যালিলিক এসিড, অ্যালিজিক এসিড সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করে, দাগ, একনে এবং ত্বক ফাটা থেকে রক্ষা করে। দুই থেকে তিনটি স্ট্রবেরি চটকে নিন। দুই চা চামচ দই এবং মধু মিশিয়ে নিন। হালকাভাবে ত্বকে ম্যাসাজ করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর এটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

হলুদের ব্যবহার:
হলুদের ঔষধি গুণের কারণে নানা শারীরিক সমস্যা ও রূপ সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকেই হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। মেছতার দাগ দূর করতেও হলুদের জুড়ি নেই। হলুদের কারকিউমিন ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে এবং মেছতার কারণে ছোপ ছোপ দাগ দূর করে ত্বকের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে।

– ৫ চা চামচ হলুদে ১০ চা চামচ তরল দুধ ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। গুঁড়ো দুধ নয়, তরল দুধ ব্যবহার করুন। কারণ তরল দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম মেছতার দাগ দূর করতে কার্যকরী।

– এরপর এতে ১ চা চামচ বেসন মিশিয়ে নিন ও পেস্টটি ঘন করে নিন।
– এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে পুরু করে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট বা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পেস্টটি ত্বকেই রাখুন।

– এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে শুকনো পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন এই পেস্টটি ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যেই ফলাফল নজরে পড়বে।

আমন্ড বা কাঠবাদামের ব্যবহার:
কাঠবাদাম ত্বকের দাগ বিশেষ করে মেছতা জাতীয় দাগ দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। কারণ কাঠবাদাম ত্বকের মেলানিনের তারতম্য যার কারণে মূলত মেছতার সমস্যা হয়ে থাকে তা দূর করতে সহায়তা করে এবং মেছতার দাগ ত্বক থেকে মিলিয়ে যেতে কাজ করে থাকে।

– পুরো রাত ৫-৬ টি বড় কাঠবাদাম আধা কাপ দুধে ভিজিয়ে রাখুন।

– সকালে এই দুধে ভেজানো কাঠবাদাম পিষে নিন খুব ভালো করে। মিহি পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। এতে ১ টেবিল চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে মসৃণ পেস্টের মতো তৈরি করুন। অনেকটা ক্রিমের হয়ে আসবে।

– এই পেস্ট মুখের ত্বকে লাগিয়ে রাতে ঘুমুতে যান। পুরো রাত এভাবেই ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ত্বক ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। প্রথমবার ব্যবহারেই অনেকটা পার্থক্য নজরে পড়বে।

– এই পেস্টটি প্রতিদিন ১ বার করে প্রায় ২ সপ্তাহ এভাবেই ব্যবহার করে ত্বক থেকে দূর করে দিন মেছতার বিশ্রী দাগ।

চন্দন –

চন্দনে অ্যান্টি এইজিং এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান আছে যা ত্বকের হাইপারপিগমেনশন কমিয়ে মেছতার দাগ দূর করে থাকে।

# ২ টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন, এবং লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এই প্যাকটি কালো বা খয়েরী দাগের ওপর লাগান। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এটি করুন।

# ১ টেবিল চামচ কমলার রস, ১ চা চামচ লেবুর রস, ভিটামিন ই, ২ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। ভাল করে এই প্যাকটি মুখে লাগান। আধা ঘন্টার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার এটি ব্যবহার করুন। আর দেখুন পার্থক্য।

# প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চন্দন পাউডার, অলিভ অয়েল, বাদাম অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। সারারাত রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন।

বিছানায় নারীরা যেসব আচরনে বিরক্ত হয়
পুরুষরা সহবাসের সময় চায় তার সঙ্গিনীর কাছে তার দক্ষতা ও পারর্দশীতা প্রকাশ করতে। কিন্তু তারা হয়ত জানে না বা জানতে চায় না যে তাদের সঙ্গিনী বা স্ত্রী কাছে এ আচরন গুলো ভালো লাগবে কি না। কারন অনেক মেয়েরাই ছেলেদের এসব আচরন একেবারেই পছন্দ করে না। তাহলে জেনে নেই সেই কাজ গুলো কি যা মেয়েদের কাছে বিরক্তকর।

* সহবাসের সময় মেয়েরা অল্প পরিমাণে কিস করা এবং হাল্কা কামড়ানো আসা করে থাকে। শরীরের কোন স্থানে এক টানা চুষতে থাকলে সেখানে একরকম লাল দাগ পরে যায়। যা প্রায় একদিন ধরে দেখা যায় শরীরে। আর একে ইংরেজীতে বলে লাভ বাইটস। তাই এই এমনকোন স্থানে এভাবে চুষা উচিত নয় যেখানে স্পষ্ট সবার চোখে এইটা পরবে। কারন এটি মেয়েটির জন্য পরে লজ্জার ব্যাপার হয়ে পরে।

* যৌন মিলনের শেষ অবস্থায় যখন বীর্যপাতের পূর্বে আপনার সঙ্গিনীকে আভাস দিন। আর এর কারন নিশ্চই আপনার অজানা নয়। তাই দম্পতির উচিত যখন সর্তকতা ছাড়া মিলিত হবেন তখন এই বিষয়টি মাথায় রাখা।

* মিলনে সময় যদি সঙ্গিনী পুরুষকে সোহাগ করতে থাকে তাহলে পুরুষের উচিত তাকে কোন বাধা না দেয়া। কারন তখন সঙ্গিনী রোমানটিক মুডে থাকে। বাধার কারনে তার মুড হয়ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

* পুরুষদের একটি বিষয় মনে রাখা দরকার তাহলো পর্ন ভিডিও দেখে কিছু শেখঅর চেষ্টা না করা। কারন এর সবটা সত্য নয়। এইসব ভিডিওতে যেসব মেয়েরা পারফর্ম করে শুধুই একজন পারফর্মার আর কিছু না। তাই আপনার সঙ্গিনীকে কখনই সেরকম ভাবা উচিত হবে না। বাস্তব সম্পূর্ন আলাদা।

* মেয়েদের আরেকটি অপছন্দের ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলো সঙ্গিনী সঙ্গে সহবাসের সময় ছবি তোলা বা ভিডিও করা। যা সঙ্গিনীর অনুমতি ছাড়া করা মোটেও উচিত নয়। আর তাছাড়া এতে অনেক সময় আপনার গপনীয়তাও অন্যের কাছে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।

* সহবাসের ক্ষেত্রে একটি ভূল বেশিরভাগ ছেলেরা করে থাকে তা হলো বীর্যপাত হওয়ার সাথে সাথে সঙ্গিনীর কাছ থেকৈ সরে যায়। কিন্তু জেনে রাখা দরকার যে অনেক মেয়েরা চায় যাতে বীর্যপাতের পরেও যেন তার সঙ্গী তাকে কিছুক্ষণ আরও আদর করুক। তাই ছেলেদের উচিত এই ব্যাপারটিও মাথায় রাখা।

Check Also

যেভাবে কাজ করে গর্ভধারণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত স্ট্রিপ

একজন নারী গর্ভবতী হয়েছেন কিনা তা আজকাল ঘরে বসেই পরীক্ষা করে নেয়া যায়। প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *